ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম অনলাইনে

ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম অনলাইনে জানেন কি? ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রী সেবাকে পৌঁছে দিয়েছে প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায়। আর কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনের দিন এখন অতীত। আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারই এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টিকেট কাউন্টার। ঈদ, পূজার মতো উৎসবের সময়ও এখন ঘরে বসেই করা যায় নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনা

এই গাইডে ২০২৫ সালের সর্বশেষ পদ্ধতি ও নিয়ম ব্যবহার করে আপনি কিভাবে সহজেই অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটবেন, তার প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

টিকেট কাটার আগে যা যা প্রয়োজন

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট বুকিং করার জন্য আপনার কাছে নিম্নোক্ত ডকুমেন্ট এবং তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখা জরুরি:

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর
  2. NID-এ উল্লিখিত সঠিক জন্ম তারিখ
  3. সচল মোবাইল নম্বর (ভেরিফিকেশনের জন্য অপরিহার্য)
  4. একটি সক্রিয় ইমেইল ঠিকানা (ই-টিকেট পাওয়ার জন্য)

ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম অনলাইনে ৭টি সহজ ধাপ (ওয়েবসাইট ও অ্যাপ)

বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি পোর্টাল eticket.railway.gov.bd অথবা “Rail Sheba” মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি এই ধাপগুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই টিকেট কাটতে পারবেন

ধাপকী করতে হবেগুরুত্বপূর্ণ টিপস
১. অ্যাকাউন্ট খোলাওয়েবসাইট বা অ্যাপে Sign Up-এ ক্লিক করে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ও NID নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুনইমেইলে পাঠানো ভেরিফিকেশন লিংক ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট সচল করুন
২. যাত্রার তথ্য নির্বাচনলগ ইন করে Departure (উৎস), Destination (গন্তব্য), তারিখ এবং ক্লাস (যেমন: শোভন, শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা ইত্যাদি) নির্বাচন করে Search Trains বাটনে ক্লিক করুনট্রেনের ধরন ও ভাড়া সম্পর্কে জানতে নিচের ট্রেনের শ্রেণী ও আনুমানিক ভাড়া টেবিলটি দেখুন।
৩. ট্রেন ও সিট বাছাইসার্চ ফলাফল থেকে আপনার পছন্দের ট্রেন নির্বাচন করুন। তারপর উপলব্ধ সিটের ম্যাপ থেকে নিজের পছন্দের আসন চিহ্নিত করে বুক করুনসবুজ সিটগুলোই শুধু বুক করার জন্য খালি থাকে। একজন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট কিনতে পারবেন
৪. যাত্রীর তথ্য দিনপ্রতিটি সিটের জন্য যাত্রীর পূর্ণ নাম এবং প্যাসেঞ্জার টাইপ (Adult/Child) সঠিকভাবে লিখুন৩ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুর জন্য Child সিলেক্ট করলে ভাড়া কমে যাবে
৫. পেমেন্ট সম্পন্ন করুনমোট ভাড়া, ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ দেখানো হবে। bKash, Nagad, Rocket, Visa, Mastercard ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্ট করুনপেমেন্ট নিশ্চিত করার জন্য মোবাইলে আসা OTP কোডটি প্রবেশ করান
৬. ই-টিকেট সংরক্ষণপেমেন্ট সফল হওয়ার পর ই-টিকেট আপনার ইমেইলে পাঠানো হবে এবং অ্যাপ/ওয়েবসাইটের Purchase History থেকেও ডাউনলোড করা যাবেই-টিকেটে থাকা PNR নম্বরটি নোট করে রাখুন। এটি টিকেট যাচাই বা পরবর্তীতে প্রয়োজন হতে পারে।
৭. ভ্রমণের দিন প্রস্তুতিভ্রমণের দিন ই-টিকেটের প্রিন্ট কপি অথবা স্মার্টফোনে সংরক্ষণকৃত ডিজিটাল কপি সঙ্গে রাখুনজাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে, যাত্রীকালে তা চেক করা হতে পারে

ট্রেনের শ্রেণী ও আনুমানিক ভাড়া (২০২৫)

বিভিন্ন বাজেট ও আরামের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কয়েকটি শ্রেণীর সেবা দেয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের আনুমানিক ভাড়া নিচের টেবিলে দেওয়া হল:

ট্রেনের শ্রেণীবর্ণনাআনুমানিক ভাড়া (ঢাকা-চট্টগ্রাম)
শোভননন-এসি সাধারণ বসার ব্যবস্থা৳২৬৫
শোভন চেয়ারনন-এসি তবে আরামদায়ক চেয়ার৳৩২০
ফার্স্ট ক্লাস/বার্থপ্রাইভেট কামরা (নন-এসি)৳৪২৫
স্নিগ্ধাএসি চেয়ার কার, হেলিং সিট৳৬১০
এসি সিটপ্রিমিয়াম এসি আসন৳৭০০
এসি বার্থএসি শোবার কামরা৳১,১০০

কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

টিকেট কত দিন আগে বুক করা যায়?

সাধারণ দিনে আপনি যাত্রার তারিখের ৫ থেকে ১০ দিন আগে পর্যন্ত টিকেট বুক করতে পারবেন। তবে ঈদ বা প্রধান উৎসবের সময় ১০ দিন বা তারও আগে থেকে বুকিং শুরু হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়

অনলাইনে টিকিট ক্যানসেল বা ফেরত নেওয়ার নিয়ম কী?

অনলাইনে কেনা টিকেট ক্যানসেল করলে যাত্রা শুরুর সময়ের উপর ভিত্তি করে ফেরত টাকা পাওয়া যায়:
৪৮ ঘন্টার বেশি আগে ক্যানসেল করলে: ৭৫% টাকা ফেরত।
২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্যানসেল করলে: ৫০% টাকা ফেরত।
২৪ ঘন্টার কম সময়ে ক্যানসেল করলে: ২৫% টাকা ফেরত।
ট্রেন ছাড়ার পরে: কোন ফেরত দেওয়া হয় না

প্রিন্ট করা টিকেট না থাকলে কি হবে?

হ্যাঁ, সমস্যা নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ে ই-টিকেট বা ডিজিটাল টিকেটকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়। ভ্রমণের সময় আপনার স্মার্টফোনে সংরক্ষণকৃত ই-টিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখালেই চলবে

টিকেটের অর্ডার সঠিক কিনা কিভাবে নিশ্চিত করব?

টিকেট কেনার পর eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটের “Verify Ticket” অপশনে গিয়ে আপনার PNR নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিলে টিকেটের সমস্ত বিবরণ চেক করতে পারবেন

মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের লিংক কী?

সরকারি ওয়েবসাইট: https://eticket.railway.gov.bd
মোবাইল অ্যাপ: “Rail Sheba” (গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায়)

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও পরামর্শ

  1. শুধুমাত্র সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন: eticket.railway.gov.bd বা “Rail Sheba” অ্যাপ ছাড়া অন্য কোন তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে টিকেট কাটা এড়িয়ে চলুন
  2. ভ্রমণের আগে টিকেট যাচাই করুন: বিশেষ করে অন্য কেএ যদি আপনার হয়ে টিকেট কাটে, তবে অবশ্যই ভ্রমণের আগে PNR নম্বর দিয়ে টিকেটটি যাচাই করে নিন
  3. শিশু ও বয়স্ক যাত্রীর তথ্য: শিশু যাত্রীর বয়স সঠিকভাবে উল্লেখ করুন যাতে সঠিক ভাড়া নির্ধারিত হয়
  4. জরুরি যোগাযোগ: টিকেট সংক্রান্ত কোন সমস্যা বা জিজ্ঞাসা থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়ের জাতীয় হেল্পলাইন ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন

উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি যে কোন সময়, যে কোন স্থান থেকে নিরাপদে এবং নিশ্চিন্তে আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের টিকেট বুকিং করতে সক্ষম হবেন।

আরও জানতে পারেনঃ সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬-

Leave a Comment