জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু নির্বাচন ৬ জানুয়ারি: শিক্ষক সমিতির দৃঢ় অবস্থান ও চলমান বিতর্ক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। অবশেষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা এসেছে যে নির্ধারিত সময়েই জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই জকসু নির্বাচন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে জকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসনের মধ্যে আগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝি। সাম্প্রতিক এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। এই প্রতিবেদনে জকসু নির্বাচন সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য, শিক্ষক সমিতির অবস্থান এবং চলমান ইস্যুগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

Index

জকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক সমিতির বক্তব্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, আগামী ৬ জানুয়ারিতেই জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে যে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন, তার সবটুকুই করা হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে জকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি বা পিছিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরও বলেন, জকসু নির্বাচন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন, তিনি হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রথম ছাত্র প্রতিনিধি। তাই জকসু নির্বাচন শুধু একটি ভোটের আয়োজন নয়, বরং এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।

জরুরি সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে জকসু নির্বাচন ও সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

শিক্ষক নেতারা বলেন, জকসু নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থির করছে। এই ধরনের অপপ্রচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সিন্ডিকেট সভা ও নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত

সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত কী ছিল

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. বেলাল হোসাইন জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর সকালে একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জকসু নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সভায় উপস্থিত সকল সদস্যই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেন।

এই সিদ্ধান্ত ছিল পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তবে পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হয় বলে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

উদ্দেশ্যমূলক দোষারোপের অভিযোগ

সিন্ডিকেট সভা শেষে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিশেষ করে শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে দায়ী করা হয় বলে দাবি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাঁর বিভাগীয় কক্ষে তালা লাগানো হয় এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্লোগান দেওয়া হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।

জকসু নির্বাচনের নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, জকসু নির্বাচনের নীতিমালা অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বেই প্রণীত হয়েছে। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরি করে তা সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের দুটি কমিটি, ইউজিসির কমিটি এবং সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করা হয়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন আজকের পর্যায়ে এসেছে।

অপপ্রচার ও সমালোচনা নিয়ে শিক্ষক সমিতির অবস্থান

৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী, কিছু মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ থেকে অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনকে দায়ী করা হয়। শিক্ষক সমিতির মতে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক এবং বাস্তবতাবিবর্জিত।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এই ধরনের অপপ্রচার ও ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। নেতারা বলেন, জকসু নির্বাচন নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন, দোষারোপ নয়।

আরও জানতে পারেনঃ গণভোট কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং বাংলাদেশে গণভোটের সম্পূর্ণ ইতিহাস

জকসু নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ

জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের মত প্রকাশের একটি সাংবিধানিক সুযোগ। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাব প্রশাসনের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা

জকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত জকসু নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।

চলমান বিতর্কে করণীয় কী

শিক্ষক সমিতির মতে, জকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল পক্ষের উচিত সংযম দেখানো। বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই না করে প্রচার করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শিক্ষার্থীদের উচিত নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে মতামত দেওয়া। একই সঙ্গে প্রশাসনেরও উচিত স্বচ্ছতার সঙ্গে সব সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা।

প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

জকসু নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে

জকসু নির্বাচন আগামী ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জকসু নির্বাচন কি এর আগে কখনো হয়েছে

না, এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম জকসু নির্বাচন।

নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল

পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বিবেচনায় সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাময়িকভাবে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষক সমিতির ভূমিকা কী

জকসু নির্বাচনের নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করার মাধ্যমে শিক্ষক সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পরিশেষে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসু নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচনী আয়োজন নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শিক্ষক সমিতির বক্তব্য অনুযায়ী, জকসু নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা থাকবে। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও অপপ্রচার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যাঘাত ঘটালেও, বাস্তব তথ্য জানলে অনেক বিভ্রান্তি দূর হবে। আশা করা যায়, সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে জকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব পাবে।

Leave a Comment