যৌতুক প্রথা অনুচ্ছেদ সহজ ও ক্লাস ৬ থেকে HSC

সাম্প্রতিক সময়ে অনুচ্ছেদ হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক “ যৌতুক প্রথা”।  অনুচ্ছেদটি ক্লাস ৬ থেকে শুরু করে JSC,SSC ও HSC পরিক্ষায় পরিক্ষার প্রশ্নে আসতে দেখা গিয়েছে। সাধারণত কোন “যৌতুক প্রথা অনুচ্ছেদটি লিখলে পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করা যাবে তা নিয়ে আমাদের গভীর চিন্তা। তবে চিন্তা নেই আমরা আজ সেরা ২টি যৌতুক প্রথা অনুচ্ছেদ আলোচনা করেছি যা আপনার জন্য বেশ উপযুক্ত হবে। 

যৌতুক প্রথা অনুচ্ছেদ ১

আমাদের সমাজে যৌতুক প্রথা একটি গভীরভাবে প্রোথিত সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিয়ের সময় কন্যাপক্ষ থেকে বরপক্ষের কাছে টাকা, গয়না বা অন্যান্য সম্পদ হস্তান্তরের এই রীতি শুধু আর্থিক চাপই সৃষ্টি করে না, বরং নারীর প্রতি অবিচারকে বাড়িয়ে তোলে। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র এর ছায়া পড়ে, যা পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের চোরাবালিতে ডুবিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি নারী নির্যাতনের মূল কারণ হয়ে ওঠে, যেখানে স্ত্রীকে শারীরিক বা মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। এমনকি কিছু ঘটনায় এটি মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, বিয়ের আগে বা পরে কোনো পক্ষের দাবিতে সম্পদ দেওয়া বা নেওয়াকে যৌতুক বলে গণ্য করা হয়। ১৯৮০ সালের নিরোধ আইন এটিকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছে, তবে বাস্তবে এর প্রয়োগ এখনও দুর্বল। দেওয়া-নেওয়া উভয়ই শাস্তিযোগ্য, যার মধ্যে কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত। এই প্রথা সমাজের সব স্তরে ছড়িয়ে আছে, কিন্তু দরিদ্র পরিবারগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে ভয়ানক। পিতা-মাতা ঋণ করে বা সম্পত্তি বিক্রি করে চাহিদা মেটান, ফলে পরিবারের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। নারীরা প্রায়ই এর বলি হন, যা তাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।

যৌতুক প্রথা অনুচ্ছেদ হিসেবে এটি একটি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। এর উৎস খুঁজলে দেখা যায়, দারিদ্র্য এর প্রধান চালিকাশক্তি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে দুর্বল হিসেবে দেখা হয়, যা এই দাবিকে উৎসাহিত করে। সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর লোভ, নারীর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং দুর্নীতির প্রভাবও এতে যোগ করে। গ্রামীণ এলাকায় এটি আরও গভীর, যেখানে শিক্ষার অভাব এবং ঐতিহ্যের বোঝা ভারী। ফলে অনেক নারী স্বামীগৃহে অপমান সহ্য করেন বা জীবন হারান। এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, সমগ্র সমাজের অগ্রগতিকে বাধা দেয়। নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে পরিবারের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়। সাহায্যের জন্য বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে, যেমন মহিলা সংগঠন বা স্থানীয় প্রশাসন। থানা, এনজিও বা চেয়ারম্যানরা সহায়তা প্রদান করেন। তবু, সমস্যার মূলোৎপাটন দূরে থাকে। 

এই প্রথা দূর করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নারীশিক্ষা ছড়িয়ে দিলে তারা স্বাবলম্বী হবে। ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার, যাতে অপরাধীদের শাস্তি মেলে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুললে মানুষের মনোভাব বদলাবে। যুবক-যুবতীদের যৌতুক ছাড়া বিয়ে করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। পুরুষদের নারীকে সমান মানুষ হিসেবে দেখতে শেখানো দরকার। পরিশ্রমে সংসার গড়ার মানসিকতা ছড়ালে লোভ কমবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালানো যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করলে নতুন প্রজন্ম সচেতন হবে। এভাবে ধাপে ধাপে সমাজ বদলাবে।

আরও জানুনঃ জেন জি অনুচ্ছেদ (আপডেট তথ্য)

যৌতুক প্রথা অনুচ্ছেদ ২ 

বাংলাদেশের সমাজে যৌতুক প্রথা একটি দীর্ঘদিনের কালো অধ্যায়। বিয়ের নামে কন্যার পরিবার থেকে বরপক্ষের হাতে টাকা, গহনা, আসবাব বা জমি হস্তান্তরের এই প্রথা শুধু অর্থনৈতিক শোষণ নয়, নারীর মর্যাদাহানির প্রতীক। ধনী হোক বা গরিব, এর থাবা থেকে কেউ রেহাই পায় না। গ্রামের দূরবর্তী ঘর থেকে শহরের অভিজাত পাড়া সর্বত্র এই দাবি উঠে। অনেক পিতা জীবনের সঞ্চয়, এমনকি ঘরের ছাদ বিক্রি করে এই চাহিদা মেটান। ফলে পরিবার ভেঙে পড়ে, মেয়েরা হয়ে ওঠেন নির্যাতনের শিকার। কখনো শারীরিক আঘাত, কখনো মানসিক যন্ত্রণা, আবার কখনো জীবনের সমাপ্তি—এসবই এই প্রথার ফল। আইন বলে, বিয়ের শর্তে কোনো সম্পদ দেওয়া-নেওয়া যৌতুক। ১৯৮০ সালের আইন এটিকে অপরাধ ঘোষণা করেছে। শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল। কিন্তু আইনের বইয়ে থাকলেও রাস্তায় এর ছায়া কমেনি। নারী সংগঠন, থানা, এনজিও সবাই চেষ্টা করে, তবু সমস্যা জিইয়ে আছে।

যৌতুক প্রথা অনুচ্ছেদ লিখতে গেলে এর মূল কারণগুলো উঠে আসে। দারিদ্র্য সবার আগে। যেখানে রুটি-কাপড়ের জোগান কঠিন, সেখানে যৌতুক হয়ে ওঠে বোঝা। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীকে ‘দায়’ ভাবে। সামাজিক মর্যাদা দেখানোর লোভে বাবা-মা নিজেকে শেষ করে দেন। নারীর চাকরি না থাকা, শিক্ষার অভাব এসব তাকে নির্ভরশীল করে। গ্রামে এটি বেশি, কারণ সেখানে ঐতিহ্যের শেকল মজবুত। ফলে একটি মেয়ে বিয়ের পরও ‘দাম’ দিতে থাকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে বিষ ঢোকে, বিচ্ছেদ ঘটে। পরিবার ভাঙে, সমাজ পিছিয়ে পড়ে। এটি কেবল ব্যক্তির নয়, জাতির ক্ষতি। 

সমাধান একদিনে আসবে না, কিন্তু পথ আছে। প্রথমে শিক্ষা। মেয়েদের পড়াশোনা, চাকরি—এটি তাদের পায়ে দাঁড় করাবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। যৌতুক নিলে জেল, নির্যাতন করলে কঠিন শাস্তি। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যুবকরা যৌতুক ছাড়া বিয়ে করলে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে। স্কুল-কলেজে এ বিষয়ে ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। মিডিয়া, নাটক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালালে মানুষ জাগবে। পুরুষদের শেখাতে হবে—নারী সম্পদ নয়, সঙ্গী। পরিশ্রমে সংসার গড়ার গল্প ছড়াতে হবে। স্থানীয় নেতারা, ইমাম-পুরোহিতরা সচেতনতা বাড়াতে পারেন। এভাবে ছোট ছোট পদক্ষেপে বড় পরিবর্তন আসবে।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পরিক্ষার সময় এই সকল কিছু লেখার পাশাপাশি অব্যশই নিজের সৃজনশীলতা ব্যবহার করুন।

Leave a Comment