সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত খবর এখন একটাই—নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে স্কেলের গেজেট। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর মন্ত্রিসভা এই স্কেল অনুমোদন করলেও গেজেট প্রকাশে বারবার সময় লাগছে। নিচে সহজ ভাষায় জেনে নিন—গেজেট কবে হতে পারে, বেতন কত শতাংশ বাড়ছে এবং কোন গ্রেডে কত টাকা বেতন দাঁড়াবে।

গেজেট কবে প্রকাশ হবে?

৬ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনে তা প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই, সম্ভবত ১০ সেপ্টেম্বর নাগাদ গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নির্দিষ্ট তারিখ নির্ভর করছে বাকি থাকা প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হয়, তার ওপর।

বেতন কত শতাংশ বাড়ছে

৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে সর্বনিম্ন গ্রেডে—২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২০,০০০ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ১৪২% বৃদ্ধি। আর সর্বোচ্চ গ্রেডে (১ম গ্রেড) মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১,৫৬,০০০ টাকা

নতুন স্কেল কবে থেকে কার্যকর হবে

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে পুরো বৃদ্ধি একবারে না দিয়ে চার ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে:

  • প্রথম ধাপ: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে মূল বেতনের ৪০%
  • দ্বিতীয় ধাপ: জানুয়ারি ২০২৭ থেকে অতিরিক্ত ৩০%
  • তৃতীয় ধাপ: জুলাই ২০২৭ থেকে অতিরিক্ত ৩০%
  • চতুর্থ ধাপ: জানুয়ারি ২০২৮ থেকে ভাতাদি কার্যকর

অর্থাৎ গেজেট প্রকাশ হলেও পুরো বেতন হাতে পেতে কর্মচারীদের দেড় বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে।

গ্রেড অনুযায়ী নতুন মূল বেতন

গ্রেডনতুন মূল বেতন (টাকা)
১ম১,৫৬,০০০
২য়১,৩২,০০০
৩য়১,১৩,০০০
৪র্থ১,০০,০০০
৫ম৮৬,০০০
৬ষ্ঠ৭১,০০০
৭ম৫৮,০০০
৮ম৪৬,০০০
৯ম৪৪,০০০
১০ম৩২,০০০
১১তম২৫,০০০
১২তম২৪,৩০০
১৩তম২৪,০০০
১৪তম২৩,৫০০
১৫তম২২,৮০০
১৬তম২১,৯০০
১৭তম২১,৪০০
১৮তম২১,০০০
১৯তম২০,৫০০
২০তম২০,০০০

গেজেট বারবার পেছানোর কারণ কী

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেজেট প্রকাশে দেরির পেছনে কোনো নীতিগত জটিলতা নেই; বরং কাগজপত্র তৈরির প্রশাসনিক ধাপগুলো শেষ করতেই সময় লাগছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সরাসরি গেজেট প্রকাশ করা যায় না। প্রথমে প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি হয়, এরপর তা যায় সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) ছাপার জন্য। ছাপার পর ফাইলটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে, তারপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে সবশেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই একাধিক ধাপের কারণেই নির্ধারিত সময়ে গেজেট প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

মূল্যস্ফীতির শঙ্কা ও বেসরকারি খাতের প্রশ্ন

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা চলছে মূলত চারটি বিষয়ে—বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে বেতনের বৈষম্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মী মোট জনশক্তির মাত্র প্রায় ২ শতাংশ হওয়ায় শুধু এই বেতন বৃদ্ধির কারণে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা কম। তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ও ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ না নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে বেসরকারি খাতের কর্মীদের নিয়েও। সরকারি বেতন কাঠামো সংশোধিত হলেও বেসরকারি খাতের বেতন কাঠামোয় একই ধরনের সমন্বয় না হলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মত দিচ্ছেন। তাই বেসরকারি খাতকে চাঙা রাখতে বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ব্যবসাবান্ধব নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শও এসেছে।

সংক্ষেপে যা জানা দরকার

  • গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য নতুন তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (নিশ্চিত নয়)
  • মূল বেতন বৃদ্ধি: ১০০–১৪২ শতাংশ
  • কার্যকরের তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে, তবে চার ধাপে
  • সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২০,০০০ টাকা (২০তম গ্রেড)
  • সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৫৬,০০০ টাকা (১ম গ্রেড)

গেজেট প্রকাশের সবশেষ অগ্রগতি জানতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার দিকে নজর রাখা ছাড়া উপায় নেই। প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে থাকায় আশা করা যায়, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে।

Posted on: September 6, 2026

Categories: Others