জমি নিয়ে যেকোনো কাজ করতে গেলে সবার আগে যেটা লাগে, সেটা হলো খতিয়ান। কিন্তু এই সাধারণ কাগজটা তুলতে গিয়ে অনেকেই কম্পিউটারের দোকান বা দালালের কাছে গিয়ে ৫০০, ১০০০, এমনকি ২০০০ টাকা পর্যন্ত গুনে দেন। অথচ বাস্তবতা হলো, সরকারি ওয়েবসাইট থেকে মাত্র ১২০ টাকা ফি দিয়ে ঘরে বসেই এই কাজ করা যায়। আজকের এই লেখায় জানবেন খতিয়ান কী কাজে লাগে এবং কীভাবে নিজে ধাপে ধাপে ডাউনলোড করবেন।

খতিয়ান কী এবং কেন প্রয়োজন

খতিয়ান হলো জমির মালিকানার সরকারি প্রমাণপত্র। এতে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও শ্রেণি লিপিবদ্ধ থাকে। জমি সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি সরকারি ও আইনি কাজেই এই কাগজটি লাগে, যেমন—

  • জমি কেনাবেচা বা দলিল রেজিস্ট্রি করার সময়
  • ব্যাংক থেকে লোন বা মর্টগেজ নেওয়ার সময়
  • জমি নিয়ে কোনো মামলা বা বিরোধ নিষ্পত্তিতে
  • নামজারি (মিউটেশন) আবেদনের সময়
  • জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য
  • ওয়ারিশ সূত্রে জমি বণ্টনের সময় মালিকানা প্রমাণে

তাই জমি কেনার আগে হোক বা পারিবারিক জমি নিয়ে কাজ করার সময়, খতিয়ানের সঠিক কপি হাতে থাকা জরুরি।

নিজে খতিয়ান ডাউনলোড করার সহজ ধাপ

ভূমি অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর দিন এখন প্রায় শেষ। মোবাইল বা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে ঘরে বসেই কাজটি সেরে ফেলা যায়।

ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন ব্রাউজার খুলে যান dlrms.land.gov.bd ঠিকানায়।

ধাপ ২: খতিয়ানের ধরন বাছাই করুন সিএস, এসএ, আরএস, বিআরএস নাকি নামজারি খতিয়ান লাগবে তা সিলেক্ট করুন। বুঝতে সমস্যা হলে হাতে থাকা পুরাতন দলিল বা কাগজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

ধাপ ৩: এলাকা নির্বাচন করুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা একে একে সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৪: খতিয়ান খুঁজে বের করুন খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম দিয়ে সার্চ করলেই আপনার জমির তথ্য চলে আসবে।

ধাপ ৫: আবেদন ফরম পূরণ করুন সঠিক খতিয়ান খুঁজে পেলে “আবেদন করুন” বাটনে ক্লিক করে নাম, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।

ধাপ ৬: ফি পরিশোধ করুন আবেদন জমা দেওয়ার পর মোট ১২০ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় অথবা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এই পেমেন্ট করা যায়। মাধ্যম বেছে নিয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী ওটিপি বা পিন দিলেই পেমেন্ট সম্পন্ন হয়ে যাবে।

ধাপ ৭: খতিয়ান ডাউনলোড করুন পেমেন্ট সফল হলে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা বা রশিদ পাবেন। এরপর “আমার আবেদন” অপশনে গিয়ে নিজের আবেদনটি খুঁজুন। খতিয়ান প্রস্তুত হয়ে গেলে সেখান থেকেই পিডিএফ কপি ডাউনলোড করা যাবে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি সময় লাগে না।

সচেতন হোন, অতিরিক্ত টাকা খরচ থেকে বাঁচুন

গ্রামাঞ্চল বা শহরের অনেক এলাকায় মানুষ অনলাইনে অভ্যস্ত না হওয়ায় স্থানীয় দোকান বা তথাকথিত দালালের কাছে যান, যারা সরকারি নির্ধারিত ১২০ টাকার জায়গায় ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে নেন। অথচ কাজটি একেবারেই সহজ—কয়েকটা তথ্য দিয়ে সার্চ করা আর অনলাইনে ফি পরিশোধ করা।

তাই স্মার্টফোন বা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে নিজেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে খতিয়ান ডাউনলোড করুন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে। পরিবারের বয়স্ক সদস্য বা প্রতিবেশী যারা এই বিষয়ে জানেন না, তাদেরকেও এই পদ্ধতি জানিয়ে দিন, যাতে তারাও অযথা বাড়তি খরচ থেকে বেঁচে যান।

কোনো সমস্যায় পড়লে ভূমি সেবার হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে কল করুন। এখানে সরাসরি সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়, কোনো এজেন্ট বা দালালের প্রয়োজন হয় না।

Posted on: September 7, 2026

Categories: Tips