শীতের সকাল অনুচ্ছেদ

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ অনলাইনে অনুসন্ধান করছেন কি ? তবে আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে শীতের সকাল অনুচ্ছেদ সম্পর্কে জানাবো যা আপনার পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে  সাহায্য করবে ।তাহলে দেরি কেন চলো না শীতের সকাল অনুচ্ছেদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ ১

শীতের সকাল যেন একটা ধীরগতির কবিতা—যেখানে শব্দ কম, অনুভূতি বেশি। রাতের গভীর নিস্তব্ধতা ভেঙে ভোর নামে না পাখির ডাকেই, নামে একটা ঠান্ডা হাওয়ার চুপচাপ ছোঁয়ায় যা চামড়ার ওপর দিয়ে হেঁটে হৃদয়ে ঢুকে যায়। জেগে উঠে জানালা খুললেই মনে হয়, পৃথিবীটা কেউ রাতারাতি সাদা কাপড়ে ঢেকে দিয়েছে। কুয়াশা এত ঘন যে দশ হাত দূরের গাছও ভূতুড়ে ছায়া। ঘাসের ডগায় শিশির জমে আছে হীরের মতো; পা রাখামাত্র সেগুলো ফেটে যায়, আর পায়ের তলায় একটা তীক্ষ্ণ শীতলতা ছড়িয়ে দেয় যেন প্রকৃতি নিজের হাতে বলছে, “জেগে ওঠো।”

গ্রামের পথে তখন ধোঁয়ার সরু রেখা ওঠে। কোথাও খড়কুটো জ্বলছে। বুড়ো-বুড়িরা গোল হয়ে বসে, হাত দুটো আগুনের কাছে এগিয়ে দিয়ে গল্প করছে গত বছরের বন্যার, নাতির দুষ্টুমির, আর কবে নাকি তাদের যৌবনে এমন শীত পড়েছিল যে পুকুরের পানি বরফ হয়ে গিয়েছিল। হাসি আর কাশির শব্দ মিশে যায় ধোঁয়ার সঙ্গে। ঠান্ডার মধ্যেও মনটা গরম হয়ে যায় এইটেই শীতের আসল জাদু।

আর বাড়িতে ততক্ষণে উঠেছে খেজুর গুড়ের গন্ধ। মা চুলোয় ভাপা পিঠার হাঁড়ি চাপিয়েছেন। চালের গুঁড়ো আর নারকেল কোরা মিশে যাচ্ছে গুড়ের সঙ্গে, ধোঁয়া উঠছে মিষ্টি মিষ্টি। চিতই পিঠা ভাজা হচ্ছে তাওয়ায় ফচ ফচ শব্দ। পাটিসাপটা গড়ে নিয়ে তার ওপর গুড়ের পুর ভর্তি করছেন দিদিমা, হাতের কাজ এখনো অবধি অব্যর্থ। একটা গরম পিঠা হাতে নিয়ে প্রথম কামড় দিলে মুখের ভিতর গুড় গলে যায়, গলা দিয়ে নেমে পেটে পৌঁছে একটা আস্ত উষ্ণতার ঢেউ ছড়ায়। পাশে মাটির কাপে চা, তার ওপর দুধের সর জমে আছে। এক চুমুক—আহ!

তারপর ধীরে ধীরে কুয়াশা সরে যায়। সূর্যটা যেন লজ্জা করে লুকিয়ে ছিল, এবার মুখ দেখায়। প্রথম আলো পড়ে গাছের মাথায়, শিশিরের ফোঁটায় রংধনু খেলে যায়। ঠান্ডা কমে আসে, কিন্তু মনের ভিতরে যে উষ্ণতা জমে গেছে সেটা থেকে যায় সারাদিন।

শীতের সকাল শেষ পর্যন্ত শুধু ঠান্ডার গল্প নয় এ হলো প্রিয়জনের কাছাকাছি আসার, ছোট্ট সুখগুলোকে হাতে ধরার, আর প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে এক করে নেওয়ার সময়। এই কয়েকটা ঘণ্টার জন্যই আমরা অপেক্ষা করি সারা বছর।

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ ২

শীতের সকাল সত্যিই অন্য সব ঋতুর সকাল থেকে আলাদা। ভোরের আলো ফোটার আগেই চারদিকে হালকা কুয়াশার একটা নরম চাদর ছেয়ে থাকে। দূরের গাছপালা, বাড়িঘর সব যেন অস্পষ্ট স্বপ্নের মতো মিলিয়ে যায়। গাছের ডালে ডালে শিশিরের ফোঁটা জমে মুক্তার মতো ঝকঝক করে ওঠে।

গরম বিছানা আর মোটা কম্বলের আদর ছেড়ে উঠতে প্রথমে বড্ড কষ্ট হয়। কিন্তু দরজা খুলে বাইরে পা রাখামাত্র ঠান্ডা হাওয়া গালে এসে লাগে আর সঙ্গে সঙ্গে সব অলসতা উবে যায়। পায়ের তলায় শিশির-ভেজা ঘাসের নরম স্পর্শ, গাছের পাতায় ঝিলমিল করা আলোর ছটা যেন প্রকৃতি নিজের হাতে নতুন সাজে সেজেছে।

ধীরে ধীরে সূর্য উঠতে শুরু করে। কুয়াশার পর্দা ভেদ করে তার মিষ্টি কমলা আলো ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। তখন সবাই বাড়ির বারান্দায়, ছাদে কিংবা রাস্তায় বেরিয়ে আসে শীতের প্রথম রোদ গায়ে মেখে। গ্রামের মাঠে-খেতে কুয়াশায় ভেজা সবুজ ফসলের সারি দেখতে অপূর্ব লাগে। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরের ফোঁটাগুলো সূর্যের আলোয় হীরার মতো জ্বলে ওঠে।

এই সময়টা গ্রামবাংলায় পিঠাপুলির। ঘরে ঘরে ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধপুলি, নারকেলের পুলি হরেক রকমের পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। মা-খালা-পিসিরা সকাল সকাল উঠে চুলায় আগুন জ্বালান, খেজুরের তাজা গুড় গলিয়ে নেন। বাইরে খেজুর চাষিরা ভোররাতে কোমরে মাটির কলসি বেঁধে গাছে ওঠেন। তাদের কষ্টের ফসল তাজা রস আর পাটালি গুড় এসে পৌঁছয় প্রতিটি বাড়িতে। সেই রস দিয়ে বানানো পায়েসের গন্ধে ভুরভুর করে ওঠে গোটা পাড়া।

শিশুরা মুখে মুড়ি-মুড়কি, হাতে গরম পিঠা নিয়ে রোদ পোহানোর দৃশ্যটা যেন শীতের সকালের সবচেয়ে মিষ্টি ছবি।

শীতের সকাল আসলে শুধু ঋতু নয়—এ যেন একটা অনুভূতি। ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরটা কাঁপলেও মনটা ভরে যায় উষ্ণতায়। প্রকৃতি যেন নিজের সবচেয়ে সুন্দর রূপটা এই কয়েক ঘণ্টার জন্যই তুলে রেখেছে যাতে আমর আমরা একটু দাঁড়াই, একটু শিউরে উঠি, আর তারপর হাসিমুখে বলি আহা, কী অপূর্ব এই শীতের সকাল!

আরও জানতে পারেনঃ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস সম্পর্কে ১০ টি বাক্য

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ ৩

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। হেমন্তের বিদায়ের পরেই শীতের আগমন, আর তারই পরিপূর্ণতার শেষে ফোটে বসন্তের ফুল। কিন্তু শীতের আগমন ও বিদায় প্রকৃতির দুই বিপরীত রঙে। পাতা ঝরার সুর শীতের আগমনী বার্তা, আর গাছে নব কিশলয়ের গজান সেই শীতেরই বিদায়ের সূচনা।

শীতকালের সবচেয়ে মনোরম দৃশ্য দেখা যায় তার ভোরবেলায়। তখন প্রকৃতির বুকে যেন নেমে আসে নরম সাদা চাদর। সূর্য উদয় হলে সেই কুয়াশার আভা সরতেই প্রকৃতি মেলে ধরে নয়নাভিরাম রূপ। শিশিরসিক্ত মাঠ, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট সবকিছুতেই সূর্যের আলো পড়ে ঝলমলিয়ে ওঠে। এই শীতে কুয়াশার ঘন আমেজে সকালের গরম বিছানা ছাড়তে কার না ইচ্ছা হয়? পাখিরাও তাদের বাচ্চাদের নিয়ে বাসা ছেড়ে বেরোতে চায় না, বরং ডানায় জড়িয়ে আগলে রাখে।

শীতের সকালে চারদিক ছেয়ে যায় সরিষাফুলের সোনালি আভায়। মনে হয় যেন হলুদের এক অফুরান সমুদ্র। আর সেই সঙ্গে ভেসে আসে ফুলের মধুর সুবাস। উত্তরের হিমেল হাওয়া এসে গায়ে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু এই শীতকে উপেক্ষা করেই বাঙালির মেতে ওঠে পিঠা-পুলির উৎসবে। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই বাড়িতে বাড়িতে পিঠা তৈরি হয়, গ্রামগুলো যেন উৎসবে মেতে ওঠে।

সকালে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই রোদে বসে গায়ে গায়ে স্নিগ্ধ তাপ মাখে। কেউ কেউ আবার শীত কাটাতে মাঠে-ঘাটে আগুন জ্বালিয়ে আগুন পোহায়। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হাসি-আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে সময়।

কিন্তু এই শীত যে কেবল উৎসব আর সৌন্দর্য নিয়ে আসে তা নয়, অনেকের জীবনে বয়ে আনে কষ্টের হিম শীতলতা। গরিব মানুষের পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকে না। ভাঙা কুঁড়েঘরের ফাঁক দিয়ে হু হু বাতাস ঢুকে শীত আরও দুর্বিষহ করে তোলে। তাদের জন্য শীত রোদ উঠার অপেক্ষা, একমুখী উষ্ণতার আশায় দিন কাটে।

শীতের সকাল শহর ও গ্রামে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়ে আসে। ইট-কাঠ-কংক্রিটের শহরে প্রকৃতির এই রূপ-রস খুব একটা ফুটে ওঠে না, ব্যস্ত মানুষ সৌন্দর্য উপভোগ করার সময়ও পায় না। কিন্তু গ্রামে শীত আসে স্বর্গীয় রূপ নিয়ে। নিবিড় স্নিগ্ধতা, পবিত্র শান্তি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার চাদর সরে যায়, প্রকৃতি তার রূপ পাল্টায়, মানুষজন নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ ৪

শীতের সকালের সৌন্দর্য বর্ণনা করা সত্যিই কঠিন। কথায় যতই বলি, তার চেয়ে অনেক বেশি অনুভূতিতে ধরা পড়ে এই সময়টা। ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশা নেমে আসে ঘন চাদরের মতো। আকাশ ম্লান, দূরের গাছপালা অস্পষ্ট, পৃথিবী যেন একটা স্বপ্নের ভেতর ডুবে আছে। ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগলে শরীর শিউরে ওঠে, কিন্তু মনটা আনচান করে।

জানালা খুললেই চোখে পড়ে ঘাসের ডগায় ঝিকমিক করা শিশিরবিন্দু যেন কেউ রাতের অন্ধকারে ছড়িয়ে দিয়ে গেছে হাজার হাজার মুক্তো। গ্রামের মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ রঙ কুয়াশার ভেতর দিয়ে আভা ছড়ায়। দূরে খেজুর গাছের সারি, তার নিচে মাটির কলসিতে টপটপ করে রস পড়ার শব্দ। সেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় হচ্ছে—তার মিষ্টি গন্ধ মিশে যায় ঠান্ডা বাতাসে, চারদিক মৌ মৌ করে।

পাখিরা কিচিরমিচির করে, ঝিঁঝিঁ পোকার সুর মিলে যায় তাতে। এই সুরই যেন ডাকে জাগিয়ে দেয়। গ্রামের মানুষ ভোরবেলা উঠে পড়েন, লেপ ছেড়ে, হাত-পা ঝাড়া দিয়ে কাজে বেরিয়ে পড়েন। চুলোয় পিঠা উঠছে ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধপুলি। মায়ের হাতের গরম পিঠা মুখে দিলে শীতের সকালটা পুরোপুরি জয় করে নেয়। শহরেও এখন গলির মোড়ে ভাসমান পিঠার দোকান বসে, গন্ধ ছড়ায় দূর থেকেই।

ফুটপাতে কাঁথা বলতে বলতে কাঁপতে থাকা বুড়ো, গলির কোণে কুঁকড়ে শুয়ে থাকা কুকুর, রাতভর ঠান্ডায় অসাড় হয়ে যাওয়া ভাসমান মানুষ—তাদের কাছে শীতের সকাল মানে নিষ্ঠুরতা। এক কাপ গরম চা, একটু খাবার, একটা পুরনো কম্বল—এতটুকুই পারে তাদের শরীরে একটু উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে। আমরা পারি সেই হাত বাড়াতে।

এই সময় হাওর-বাঁওড় ভরে যায় অতিথি পাখিতে। সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার মাইল উড়ে এসে তারা আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের জলাভূমিতে। কিন্তু কিছু মানুষের লোভে বন্দুক উঠে, অতিথি হত্যা করা হয়। এই অপরাধ বন্ধ করাও আমাদের দায়িত্ব।

শীতের সকাল মানে কুয়াশা, শিশির, পিঠার গন্ধ, খেজুরের গুড় আর গরম চায়ের কাপ হাতে লেপের ভেতর বসে থাকা। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা—এই সকাল আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানবিকতার।

শেষ কথা

প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে শীতের সকাল অনুচ্ছেদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি।  তবে এই আর্টিকেলটি সম্পর্কের যদি অর্থাৎ শীতের সকাল অনুচ্ছেদ  সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আপনি নির্দ্বিধায় কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। 

Leave a Comment