বাংলাদেশে প্রায় প্রত্যেকেই কম-বেশি সঞ্চয় করেন। অনেকের সঞ্চয় শুরু হয় মাসিক ডিপিএস (Deposit Pension Scheme) দিয়ে। ডিপিএসের মেয়াদ শেষ হলে হাতে একসঙ্গে বড় অংকের টাকা আসে – যেমন ৫ লাখ বা তার বেশি। এখন প্রশ্ন উঠে, এই ডিপিএসের টাকা কোথায় বিনিয়োগ করবেন?
পরিবারের প্রয়োজন মেটানো, জরুরি খরচ বা শখ পূরণ করা যায় এই টাকায়। কিন্তু অতি জরুরি না হলে সঞ্চয়ের টাকা তাড়াহুড়ো করে খরচ না করাই ভালো। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে রাখলে এই টাকা আরও বাড়তে পারে – এমনকি দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে!
কেন ডাবল বেনিফিট স্কিম সেরা অপশন?
দেশের শেয়ারবাজারের অস্থিরতায় অনেকে ঝুঁকি নিতে চান না। তাই সাবধানী সঞ্চয়কারীদের জন্য আদর্শ ব্যাংকের ডাবল বেনিফিট স্কিম বা ডাবল মানি স্কিম। এতে এককালীন টাকা জমা রাখলে নির্দিষ্ট মেয়াদে (সাধারণত ৬-১০ বছর) টাকা দ্বিগুণ হয়ে ফেরত পাবেন (কর কাটার আগে)। এটি FDR-ভিত্তিক নিরাপদ বিনিয়োগ।
রূপালী ব্যাংক ডাবল বেনিফিট স্কিম (Rupali Double Benefit Scheme)
রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের জনপ্রিয় এই স্কিমে:
- মেয়াদ: ৬ বছর ৯ মাস
- টাকা দ্বিগুণ হয় (করের আগে)
- সুদের হার: প্রায় ১০.৮২% (চক্রবৃদ্ধি)
- ন্যূনতম জমা: ১ লাখ টাকা (বা তার গুণিতক)
- সুবিধা: জরুরি ঋণ সুবিধা, মৃত্যু হলে নমিনি পূর্ণ লাভ পাবেন, প্রতিষ্ঠানও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে, অপ্রাপ্তবয়স্করা অভিভাবকের সাথে যৌথভাবে খুলতে পারেন।
- সুবিধা: সুদের হার লকড – মেয়াদে কোনো পরিবর্তন হবে না।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (UCB) ডাবল বেনিফিট স্কিম
- মেয়াদ: সাধারণত ৫-৬ বছর (ব্যাংকভেদে ভিন্ন)
- ন্যূনতম জমা: ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু – ছাত্র-যুবাদের জন্য সুবিধাজনক।
- অন্যান্য ব্যাংক যেমন জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকেও অনুরূপ স্কিম আছে।
FDR vs সঞ্চয়পত্র: কোনটা ভালো?
সঞ্চয়পত্রে মাসিক সুদ ও নিরাপত্তা ভালো, কিন্তু FDR-এর সুবিধা:
- যেকোনো সময় ৮০-৯০% ঋণ পাওয়া যায় (সঞ্চয়পত্র ভাঙতে হয় না)।
- ডাবল স্কিমে দ্বিগুণ লাভের নিশ্চয়তা।
অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- আপনার ও নমিনির ২ কপি ছবি
- NID/পাসপোর্ট/জন্ম সনদের ফটোকপি
- পরিচয়দানকারী (ব্যাংকে অ্যাকাউন্টধারী)
- ফরমে স্বাক্ষর ও যোগাযোগের ঠিকানা
আরও জনাতে পারেনঃ ব্যাংকে ডাবল বেনিফিট স্কিমে বিনিয়োগ করে দ্বিগুণ লাভ
পরিকল্পিত সঞ্চয় করুন
জীবনে অনিশ্চয়তা অনেক। বড় রোগ বা দুর্ঘটনা সর্বস্বান্ত করতে পারে। তাই বিভিন্ন স্কিমে সঞ্চয় ভাগ করে রাখুন। জরুরি ফান্ড আলাদা রাখলে মূল সঞ্চয়ে হাত দিতে হবে না। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও সঞ্চয় আর্থিক নিরাপত্তা দেবে।
